প্রতারণা মামলায় খায়রুল বাশারের ৪ কোটি টাকা মূল্যের ৩টি ফ্ল্যাট ক্রোক

প্রতারণা মামলায় খায়রুল বাশারের ৪ কোটি টাকা মূল্যের ৩টি ফ্ল্যাট ক্রোক

শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশার বাহারের নামে থাকা তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রোক করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। আজ ১৬ অক্টোবর ২০২৫, সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ফ্ল্যাটগুলো ক্রোক এবং রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন।

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, খায়রুল বাশার নিজেকে একজন শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও, বাস্তবে তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কস নামক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে তিনি ও তার সহযোগীরা আমেরিকা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্প খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন। চটকদার বিজ্ঞাপন ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তারা শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়, যার নম্বর ০৫, তারিখ ৪ মে ২০২৫। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে ধানমন্ডি এলাকা থেকে খায়রুল বাশারকে গ্রেফতার করে সিআইডি এবং আদালতে সোপর্দ করে।

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে খায়রুল বাশার ঢাকায় তিনটি ফ্ল্যাট কেনেন, যেগুলোর সম্মিলিত মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। এসব সম্পদ অবৈধভাবে অর্জিত হওয়ায় সিআইডি আদালতে আবেদন করে এবং আদালত তা মঞ্জুর করে ফ্ল্যাটগুলো ক্রোকের নির্দেশ দেন।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, খায়রুল বাশার ও তার সহযোগীদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির খোঁজ চলছে। অপরাধের পূর্ণ চিত্র উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডি সাধারণ জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, উচ্চশিক্ষার নামে প্রতারণামূলক প্রলোভনে পা না দিয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন প্রতারণার শিকার না হন।