ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নতুন সরকারের সামনে আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষাই এখন অন্যতম বড় ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৪ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ওই প্রেক্ষাপটে গণআন্দোলন জোরদার হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার সরকার।
দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিত অবস্থায় তার বিচার সম্পন্ন হয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও ভারতের সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি স্পষ্টভাবে ভারতের দিকে ঝুঁকে ছিল। তার আমলে নয়াদিল্লিতে একাধিক দ্বিপাক্ষিক সফর হয় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা হয়। বাংলাদেশে সক্রিয় ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে সমালোচকদের দাবি, তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি অমীমাংসিত রয়ে যায় এবং সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে ভারতীয় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ে। বড় অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। ১৪ বছর পর করাচির সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়। ১৩ বছর পর পাকিস্তানি মন্ত্রীরা ঢাকা সফর করেন। সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয় এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
সম্প্রতি এক সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘নট দিল্লি, নট পিণ্ডি—বাংলাদেশ সবার আগে।’ তার এই অবস্থানকে অনেকে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
দিল্লিভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক স্মৃতি পট্টনায়ক বিবিসিকে বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রায় অনুপস্থিত ছিল। তার মতে, ভারতের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে থাকার পর এখন বিপরীত দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো—ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করে আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।