মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘১০ থেকে ১৫ দিনের’ আলটিমেটাম ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ইরান একযোগে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, একটি ‘অর্থবহ চুক্তি’ না হলে পরিস্থিতি গুরুতর পরিণতির দিকে যেতে পারে। এর পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি ও প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে সরাসরি প্রতিক্রিয়া সীমিত রাখলেও জাতিসংঘে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়ে সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোনও হামলা হলে ইরান জবাব দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভায় মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূতের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ-এর সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে কথা বলেছেন। নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার অবস্থান তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আঞ্চলিক পর্যায়েও যোগাযোগ বাড়িয়েছে তেহরান। সৌদি আরব ও মিসরের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানো আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ডস হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মহড়া পরিচালনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার সক্ষমতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইরানি কৌশলবিদদের মতে, বর্তমান লক্ষ্য কেবল সংঘাত এড়ানো নয়; বরং সংঘাত শুরু হলেও তার পরিসর নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সীমিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বজায় রেখে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে তেহরান। তবে কোনও আলটিমেটামের মুখে সার্বভৌমত্ব বিসর্জন না দেওয়ার অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
সামগ্রিক পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি ও সামরিক তৎপরতা—দুই পথেই প্রস্তুতি রেখে এগোচ্ছে ইরান।